ড্রোন কি? ড্রোন কে আবিষ্কার করেন - ড্রোনের ব্যবহার

 

ড্রোন :  মনুষ্যবিহীন এরিয়াল ভেহিকল (UAV) unmanned aerial vehicle সম্পর্কে পড়ুন সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায়

ড্রোন নামটি মুখে উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় প্রুযুক্তির কথা। এক সেকেন্ডের জন্য হলেও মনে হয় প্রুযুক্তি ছাড়া মানুষ অচল।দিন দিন বিজ্ঞান ও প্রুযুক্তি মনে হয় মানুষকে নতুন ভাবে কিছু উপহার দিচ্ছে আর আমরা সকলেই যেনো প্রুযুক্তির সারিতে আবদ্ধ।

বর্তমান সময়ে ড্রোন,ড্রোন ক্যামেরা গুলোর ব্যবহার অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং মানুষের বিভিন্ন কঠিন কাজের ব্যবহার অনেক সহজ করে তুলেছে। আজ আমরা জানতে চলেছি ড্রোনের তথ্য ও ইতিহাস তাহলে চলুন প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক :

ড্রোন কি

ড্রোন টেকনোলজি : ড্রোন হলো একটি মনুষ্যবিহীন যা আকাশযান ড্রোন বা উড়ন্ত রোবট নামে পরিচিত ইহা অনবোর্ড সেন্সর এবং GPS একত্রিত হয়ে কাজ করে থাকে এবং সফ্টওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফ্লাইট প্ল্যানগুলি এর এমবেডেড সিস্টেমে ব্যবহার করে এবং যার মধ্যে একটি স্থল ভিত্তিক নিয়ন্ত্রক প্যানেল এবং UAV এর সাথে সংযোগ ও যোগাযোগের সিস্টেম যুক্ত করা রয়েছে। 

Mini drone গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য Remote ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ড্রোন কে আকাশে ওড়ার সময় কোনো মানুষ বা যাত্রীর প্রয়োজন হয়না এবং খুব সহজেই অনেক দূরত্ব থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। 

কে ড্রোন আবিষ্কার করেছেন

ড্রোন আবিষ্কার করেছেন (আব্রাহাম কারেম) তাকে ইউএভি প্রযুক্তির জনক বলা হয়। আসুন এক নজরে জেনে নেই প্রুযুক্তির মহা নায়ক আব্রাহাম কারেমের ইচ্ছা ,প্রতিভা ও জীবনের কিছু অংশ।

আব্রাহাম কারেম ১৪ বছর বয়সে বিমানের মডেলে একটি ড্রোন তৈরী করছিলো (UAV) মনুষ্যবিহীন এরিয়াল ভেহিকল ড্রোন এবং বিস্তারিত তথ্য।

আব্রাহাম কারেম ২৭ জুন ১৯৩৭ সালে ইরাকের বাগদাদে আসিরিয়ান ইহুদি দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। আব্রাহাম কারেম জন্মের ১৪ বছর পরেই  ১৯৫১ সালে তাঁর পরিবারের মানুষ তাঁকে নিয়ে ইসরাইলে চলে যায় এবং আব্রাহাম কারেম সেখানেই বড়ো হয়ে উঠতে থাকে। ছোটবেলা থেকেই আব্রাহাম কারেমের (অ্যারোনটিক্সের) প্রতি আবেগ অনেক বেশি ছিলো। আব্রাহাম কারেম ১৪ বছর বয়সে (বিমানের মডেল ) তৈরী করতে শুরু করেছিলো আর তখন থেকেই আব্রাহাম কারেমকে (ইউএভি) ড্রোন প্রযুক্তির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

আব্রাহাম কারেম টেকনিয়ন থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেন এবং তিনি সকল ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জন্য (ইয়োম কিপপুর) যুদ্ধের সময় তার প্রথম ড্রোন আবিষ্কার করেছিলেন আর ১৯৭০ সালে  আব্রাহাম কারেম  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের একজন হন। 

ড্রোন কি কি কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে ?

অনুসন্ধান ও উদ্ধার ,ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ,নজরদারি,ফটোগ্রাফি,ভিডিওগ্রাফি,অগ্নিনির্বাপণ,আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ,ব্যক্তিগত ব্যবহার - ইত্যাদি।তাই মানুষ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে প্রুযুক্তির এই উপহার ড্রোন দ্বারা অনেক উপকৃত হচ্ছে। ধীরে ধীরে ড্রোনের ব্যবহার ও অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রোন যদিও প্রথম অবস্থায় সামরিক বাহিনীরা যুদ্ধের কাজে কঠিন নজরদারি ,উদ্ধার এইসব কাজে ব্যবহার করেছেন কিন্তু বর্তমান সময়ে ড্রোন ক্যামেরা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে  ফটোগ্রাফি ,ভিডিওগ্রাফি ,নকশা তৈরী ,কৃষি এবং ব্যক্তিগত কাজে।

ড্রোন একটি শখের জিনিস তাই শিশু কিশোর থেকে শুরু করে অনেকেই রয়েছে যারা নিজের ইচ্ছা প্রকাশে ও আনন্দ লাভের জন্য খেলনা ড্রোন আকাশে উড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন ভাবে বিনোদন গ্রহণ করতেছে।

ড্রোন সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

UAV ড্রোনের পূর্ণরূপ : unmanned aerial vehicle বাংলা অর্থ - মনুষ্যবিহীন এরিয়াল ভেহিকল এবং সংক্ষিপ্ত আকারে (ইউএভি), যা ড্রোন নামে পরিচিত। আবার অনেকেই - জনহীন বায়বীয় বাহন,চালকবিহীন আকাশযান নামে ড্রোনের সঙ্গে পরিচিত।

হ্যা - ড্রোন একটি উড়ন্ত রোবট। একটি ড্রোন দূরবর্তীভাবে নিয়ন্ত্রিত বা Autonomously উড়তে পারে এবং সফ্টওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত ফ্লাইট প্ল্যানগুলি এর এমবেডেড সিস্টেমে ব্যবহার করে, যা অনবোর্ড সেন্সর এবং GPS সিস্টেম এর সাথে একত্রে কাজ করে।

ড্রোন আমাদের প্রয়োজন কারণ : একটি ড্রোন যে সকল জায়গায় অ্যাক্সেস করতে পারে বা যেতে সক্ষম মানুষ সেখানে যেতে সক্ষম নয়। তাই বিপজ্জনক ,দূরবর্তী অবস্থান ,অনুসন্ধান এবং উদ্ধারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য ড্রোন আমাদের প্রয়োজন।

ইসরাইলে প্রথম ড্রোন তৈরী করা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে আরব - ইসরাইলে যুদ্ধের পর এবং ড্রোন তৈরির মূল কারণ ছিল বিমানবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি শোধন ,ইসরাইল হলো প্রথম ড্রোন আবিষ্কারক দেশ - যাঁরা যুদ্ধের জন্য সামরিক ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করেছিল।

ড্রড্রোন আবিষ্কার করার উদ্দেশ্য ছিল উচ্চতা থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করা যা ভূমির থেকে অনেক নিরাপদ। যুদ্ধ ক্ষেত্রে ড্রোন সামরিক উদ্দেশ্যে উদ্ভাবিত হয়েছিল অনেক দূরত্ব থেকে নজরদারি ,লক্ষভেদ ,এবং উদ্ধারের কাজে সঠিক ব্যবহারের জন্য।

দেশের সেরা ড্রোন বিবেচনায় এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে এগিয়ে রয়েছে। ড্রোনের সাথে অপারেশনাল কাজ মার্কিন সেনাবাহিনীকে UAV প্রযুক্তির স্থাপত্য,নকশা এবং কর্মসংস্থানের সাথে অসাধারণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

Post a Comment

এখানে আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন। দয়া করে মনে রাখবেন যে পোস্ট ব্যতীত অন্য কোনো স্প্যাম মন্তব্য করবেন না টেকবিএন নিউজ কোনো স্প্যাম মন্তব্যর জন্য সীকৃতি দেয়না

Previous Post Next Post